অনুপস্থিতি মানেই নীরবতা নয়: দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন শেখ হাসিনা

অন্বেষণ ডেস্ক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে ইমেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এই তথ্য সামনে আসে। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে তাঁর অনুপস্থিতি মানেই নীরবতা নয়।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তবে দেশত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বা দলের অন্য কেউই স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। বরং তৎকালীন বাধ্যবাধকতায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণের ওপর নির্ভর করে না। দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফলে, এসব অধিকার নিশ্চিত হলেই তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, আওয়ামী লীগ বন্দুকের নলে জন্ম নেয়নি। তাই কোনো কাগুজে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই দলকে চিরতরে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
দল পুনর্গঠন সম্পর্কে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের নিজস্ব ঘর গোছানোর সম্পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি দলের গঠনতান্ত্রিক নিয়মেই হবে। দেশের ভেতরে এখনও তাঁদের লাখ লাখ সমর্থক ও হাজারো নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
এছাড়া, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া নির্যাতন নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় ৬০০ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং দেড় লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি একে একধরনের নীরব রাজনৈতিক গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার মাত্র দেড় বছরে অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ তলানিতে নেমেছে।
পাশাপাশি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রমেরও সমালোচনা করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার মাত্র তিন মাসে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধু রাষ্ট্র এবং মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ বর্তমানে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে অন্য দেশের প্রতি যে ঘনিষ্ঠতা দেখানো হচ্ছে, তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থি। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে।
সবশেষে, দেশে উগ্রপন্থি ও জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, সাজাপ্রাপ্ত অনেক জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ফলে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো অন্ধকার দিনগুলো দেশে আবার ফিরে আসার উপক্রম হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

শিক্ষকদের জাতীয়করণে মায়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেবেই প্রধানমন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ‘বড় ভাই-ছোট ভাই’ নয়, সমতার হওয়া উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

নির্বাচন কমিশনার ও প্রতিমন্ত্রী 'হা-ডু-ডু' খেলছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করলেন এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক নেবে না সরকার: প্রতিমন্ত্রী

সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় সাহস কারও নেই: জামায়াত আমির

‘আল্লাহর অশেষ রহমত, বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না’: রুমিন ফারহানা

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

