ভোটের অধিকার রক্ষায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “ভোটের দিন তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে উঠবেন। ভোটকেন্দ্রের সামনে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। নিজের ভোট দিয়ে হিসাব বুঝে তবেই ঘরে ফিরবেন। কোনো ষড়যন্ত্র যেন আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।”
রোববার ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ফেনী তাঁর নানাবাড়ির এলাকা। এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি সরকার গঠন করলে ফেনীতে একটি ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে ফেনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কথাও জানান তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের মানুষের যেমন বিএনপির কাছে প্রত্যাশা আছে, তেমনি বিএনপিরও জনগণের কাছে দাবি আছে। আর সেই দাবি হলো—ধানের শীষকে বিজয়ী করা। তিনি বলেন, “আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। গত ১৫ বছর মানুষের ভোটের অধিকার দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার পালিয়েছে। এখন দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে।”
জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস, এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নারী ও কৃষকদের জন্য আলাদা কর্মসূচির ঘোষণাও দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তা পুরো মাসের জন্য যথেষ্ট না হলেও অন্তত এক সপ্তাহের অভাব দূর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কথাও বলেন তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির লাগাম টানতে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করা জরুরি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার এলাকা হিসেবে ফেনীর মানুষের দায়িত্ব আরও বেশি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষ যতবার সুযোগ পেয়েছে, দেশর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। এবার সরকার গঠন করতে পারলে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো নতুন করে শুরু করা হবে।”


