বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে করা সব আপিল ও রিট নিষ্পত্তি হওয়ায় এই অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
এর আগে ওই আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। তবে পরবর্তীতে তারা দু’জনই তাদের আপিল প্রত্যাহার করে নেন।
এর মধ্যেই বগুড়া-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ সেই রিট খারিজ করে কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে সাহাবুদ্দিন আপিল বিভাগের অনুমতি চেয়ে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন। তবে আপিল বিভাগ আজ আদেশে জানান, এ সংক্রান্ত শুনানি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বর্তমান নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কাজী রফিকুল ইসলামের সামনে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না।
আইনজীবীরা জানান, দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম আগে উচ্চ আদালত থেকে একটি স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) পেয়েছিলেন। পরে ৮ জানুয়ারি এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করলে আদালত আগের আদেশ স্থগিত করেন। এরপর রোববার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত সেই স্থগিতাদেশও খারিজ করে রিট আবেদন বাতিল করেন।
এই সিদ্ধান্তের খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। দলীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করা হয় এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম। পরে তিনি ২৮ ডিসেম্বর সারিয়াকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌসের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এবার বগুড়া-১ আসনে বিএনপির এই প্রার্থীর নির্বাচনী মাঠে থাকতে আর কোনো বাধা রইল না।


