অন্বেষণ ডেস্ক : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়কদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট এবং বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচ বয়কট প্রসঙ্গেও কথা বলেন পাক অধিনায়ক। সালমান আগা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্ত এবং তারা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। সরকার যা বলবে, জাতীয় দল হিসেবে তারা সেটিই মেনে চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার মূল সূত্রপাত হয়েছিল বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। আইপিএল থেকে এই বাঁহাতি টাইগার পেসারকে বাদ দেওয়া হলে নিরাপত্তার শঙ্কায় ভারতে ম্যাচ না খেলার অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।
আইসিসির সিদ্ধান্তের পরেও বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। ফলে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এই জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের না থাকা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সালমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই, পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এটা সত্যিই দুঃখজনক যে তারা এবার বিশ্বকাপে খেলছে না।’ তার এই মন্তব্যে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের উষ্ণতা ফুটে ওঠে।
তবে ভারতের ম্যাচ বয়কট করলেও টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে পাকিস্তান দল বেশ রোমাঞ্চিত। সালমান আগা জানান, তাদের আরও তিনটি ম্যাচ রয়েছে এবং সেগুলোতে ভালো করার জন্য দল মুখিয়ে আছে। মাঠের ক্রিকেটে তারা নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।
গ্রুপ পর্বে ভারতের সঙ্গে খেলা না হলেও টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে, বিশেষ করে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে সূর্যকুমারের দলের সঙ্গে পাকিস্তানের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পাকিস্তান কী করবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন সালমান।
তিনি জানান, যদি নকআউট পর্বে ভারতের বিপক্ষে খেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তারা আবারও সরকারের দ্বারস্থ হবেন। তখন সরকারের পরামর্শ এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আপাতত তারা সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তের ওপরই অটল রয়েছেন।


