অন্বেষণ ডেস্ক : শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে চলন্ত লঞ্চ থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে পড়ে যান মো. জাহির নামের এক যাত্রী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নামার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় তাকে জীবিত উদ্ধারের এই ঘটনাটি ঘাটে উপস্থিত সবার মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করে।
জানা যায়, ওই দিন দুপুরে চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী রব রব–৭ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে সময় লঞ্চটি পল্টুনে সম্পূর্ণভাবে বাঁধা বা থামার আগেই ওই ব্যক্তি ঝুঁকি নিয়ে লাফিয়ে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি পন্টুনে নামতে পারেননি।
লঞ্চ থেকে লাফ দেওয়ার পর তিনি লঞ্চের সামনের দিকের অংশে বেশ কিছুক্ষণ বিপজ্জনকভাবে ঝুলে ছিলেন। উপস্থিত লোকজন তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে হাত ফসকে তিনি সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে পড়ে যান। এই পুরো ঘটনার একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, কীভাবে সামান্য অসতর্কতার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ওই যাত্রীর জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয় ছিল যে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটে আগে থেকেই ফায়ার সার্ভিসের একটি সুদক্ষ ডুবুরি দল দায়িত্ব পালন করছিল।
নদীতে পড়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি যখন স্রোতের কারণে ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন এক মুহূর্ত দেরি না করে ডুবুরি দলটি পানিতে ঝাঁপ দেয়। অত্যন্ত দ্রুত এবং পেশাদার উদ্ধার তৎপরতার কারণে ওই যাত্রীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. জাহির। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা এবং ঈদের ছুটিতে যাতায়াত করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম এই রোমহর্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঈদে যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে তাদের বিশেষ দল ঘাটে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছিল।
পানিতে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ডুবুরিরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে দ্রুত মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। বর্তমানে ওই যাত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
নৌপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ। লঞ্চ সম্পূর্ণ না থামা পর্যন্ত যাত্রীদের ওঠানামা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই যাত্রীদের এমন বেপরোয়া আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন। নেটিজেনদের মতে, কেবল একটুখানি সময়ের জন্য নিজের জীবনের এমন ঝুঁকি নেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


