কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ঢাকাগামী আন্তঃনগর এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে এবং প্রায় এক ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে।
নিহত কলেজছাত্রের নাম আবু সুফিয়ান। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের কড়িয়াল এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও ছাত্র-জনতা কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান নিলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান, অবরোধের কারণে ঢাকাগামী এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় ৫০ মিনিট দেরিতে ছেড়ে গেছে। বর্তমানে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রাতে গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মেরাজকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পঞ্চবটী এলাকা থেকে সহযোগী নিদানকে আটক করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেরাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার তথ্য অনুযায়ী নিহত আবু সুফিয়ানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারীরা আবু সুফিয়ানের মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


