অন্বেষণ ডেস্ক : রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃতীয় লিঙ্গের আলোচিত প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর নূরপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। মূলত হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রানী স্পষ্টভাবে জানান, তার এই সরে দাঁড়ানো কারও প্ররোচনায় নয়। তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক ‘হরিণ’ এ ভোট না দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কর্মী ও সমর্থকদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি।
আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ যেন সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকে, সেদিকে সবার নজর দেওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, কারও কাছে বিক্রি না হয়ে বরং বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতেই এই নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কোনো বিদায় নয়। সংসদে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায়ে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সময়ের পরিবর্তন হলেও প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন রানী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা পিছিয়ে রাখা জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছেন।
নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের উদাহরণ টেনে রানী বলেন, ১৯৭৩ সালে নারীদের জন্য ১৫টি আসন ছিল, যা এখন ৫০টিতে দাঁড়িয়েছে। অথচ হিজড়া বা অন্য প্রান্তিকদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি সরকারের কাছে অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন বা ইতিবাচক পদক্ষেপের দাবি জানান। দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই মানুষদের মূলধারায় আনতে সংসদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসন সংরক্ষণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
রানীর মতে, নিজ দেশে আদিবাসী ও হিজড়ারা পৈত্রিক সম্পত্তি, শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। এমনকি লাশ দাফনেও বাধার সম্মুখিন হতে হয়, যা অত্যন্ত অমানবিক। এই বঞ্চনার অবসান চান তিনি।
উল্লেখ্য, আনোয়ারা ইসলাম রানী ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৩ হাজার ভোট পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন।


