ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর জনপ্রিয় বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেছেন, কেন আবুল সরকারকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না। তার আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনও আইনি বাধা নেই।
এর আগে বিচারিক আদালতে দুই দফা জামিন আবেদন করা হলেও গত বছরের ২৩ নভেম্বর ও ৮ ডিসেম্বর তা নামঞ্জুর করা হয়। এরপর উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আজ জামিন মঞ্জুর হয়।
মামলার সূত্রপাত হয় গত বছরের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় ‘খালা পাগলীর মেলা’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি পালাগানের আসরে। অভিযোগ ওঠে, ওই অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় আবুল সরকার ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার পর গত ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। পরে ঘিওর উপজেলার মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার পর থেকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে আবুল সরকার কারাগারে ছিলেন। এ সময় বাউল শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের একটি অংশ তার মুক্তির দাবি জানালেও প্রাথমিক পর্যায়ে জামিন পাননি তিনি।
আজকের আদেশের ফলে কয়েক মাস পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন এই বাউল শিল্পী। তার আইনজীবী জানান, বাউল দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে করা মন্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাউল গান ও লোকসংগীতে পরিচিত মুখ আবুল সরকারের জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিল্পী মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে আদালতের জারি করা রুলের শুনানির ওপর নির্ভর করছে তার স্থায়ী জামিনের বিষয়টি।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঢাকা বা মানিকগঞ্জ কারাগার থেকে তার দ্রুত মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।


