চাঁদপুরে এলপিজি গ্যাসের সংকট, সিলিন্ডারপ্রতি বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

চাঁদপুরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। শহরের বিভিন্ন দোকানে খোঁজ করেও গ্যাস পাচ্ছেন না অনেক ক্রেতা। আবার কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দাম বেশি নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এতে দৈনন্দিন রান্নার জ্বালানি নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। তবে চাঁদপুরের বাজারে এই দামে গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। কোথাও ১ হাজার ৯৫০ টাকা, আবার কোথাও ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে প্রতি সিলিন্ডার। বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
চাঁদপুর শহরের ছায়াবানী এলাকার বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সে গিয়ে পেট্রোম্যাক্স কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি হাসান। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা। আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা।
হাসান বলেন, বাজারে গ্যাসের সংকট চলছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের দোকানে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডারও নেই।
অন্যদিকে শহরের স্টেডিয়াম রোড এলাকার মেসার্স রাফি ট্রেডার্সের বরকত উল্লাহ শেখ রিপন জানান, তাঁদের দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস থাকলেও কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৫০ টাকা এবং কোনো কোনো কোম্পানির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ৩৩ কেজির সিলিন্ডারের দাম পড়ছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা।
ক্রেতা মনির হোসেনের অভিযোগ, শহরের তুলনায় গ্রামের বাজারে প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, দোকানে গ্যাস চাইলে অনেক সময় প্রথমে সরবরাহ নেই বলে জানানো হয়। কিন্তু বেশি দাম দিতে রাজি হলে সিলিন্ডার পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, একদিকে গ্যাসের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে সংকটের কারণে তা সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের খরচ আরও বাড়ছে।
আরেক ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, কিছু দোকানে ১০ থেকে ১৫টি সিলিন্ডার দেখা গেলেও বিক্রেতারা সেগুলোতে গ্যাস নেই বলে জানান। সিলিন্ডার পরীক্ষা করে দেখতে চাইলে বিক্রি করতে রাজি হন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুর রহমানের ভাষ্য, বাজারে গ্যাস পাওয়া না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাসায় বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। গ্যাসের বাড়তি দাম ও সংকট—দুইয়ে মিলে ভোগান্তি বেড়েছে।
এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের বেশি বিক্রির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের বেশি বিক্রি বন্ধে অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাজারে সরবরাহের ঘাটতি ও বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগের মধ্যে ক্রেতাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা হবে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

শেরপুরে রুহুল আইটির প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও ভাতা প্রদান

মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় অভিযান শুরু

চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের রুটি পুকুরে, তদন্তের নির্দেশ

চাঁদপুরে গ্রাহকের স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাৎকারী সেই ব্যবসায়ী সপরিবারে আটক

শ্বাসরোধে মাকে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে যান ছেলে

আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর

স্বামীর মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে থানায় স্ত্রীর অভিযোগ

নির্বাচনের জেরে চাঁদপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হাসপাতালে শিশু ও নারী

ঘন কুয়াশায় মেঘনায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষ, নিহত ৪

