অন্বেষণ

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ বাংলা সংবাদ

Sponsored Link

শ্বাসরোধে মাকে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে যান ছেলে

অন্বেষণ নিউজ
অন্বেষণ নিউজ
|
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
|
পড়ার সময়: মিনিট
অক্ষরের আকার:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত এক নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে নিজের মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কলাবাগানে ফেলে দেন ছেলে মো. জনি। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ।

Sponsored Link

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া ফোনের ভিত্তিতে উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার চুল খসে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিকৃত হয়ে পড়ে। বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের অংশ বন্য প্রাণী খেয়ে ফেলে বলেও জানায় পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি যৌথভাবে কাজ শুরু করলেও প্রথমে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি ‘ক্লুলেস’ হওয়ায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। নিয়মিত মনিটরিং ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হয়।

Sponsored Link

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, লোকেশন বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর মো. জনি নামে এক ব্যক্তির প্রতি সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি পুলিশকে জানান, পারিবারিক নানা কারণে ছোটবেলা থেকেই মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি পারিবারিক স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলার মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন তিনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় করে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন।

Sponsored Link

পরে হত্যার পর নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি দূরবর্তী পুকুরে ফেলে দেন বলেও জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি শুরুতে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল। কোনো পরিচয় বা প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

Sponsored Link
ট্যাগসমূহ
Sponsored Link

পাঠক মন্তব্য (টি মন্তব্য)

✓ আপনার মন্তব্য অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হবে ও সঞ্চিত থাকবে।

প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন

Sponsored Link