রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি, মাদরাসার অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার ২

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করে একটি মাদরাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটি অনুমোদনের আবেদনের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহা. নিয়ামতুল্লাহ (৫০) এবং মাদরাসার কথিত উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ড. মোহা. নিয়ামতুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার কমলাকান্তপুর এলাকার মৃত কাশেম উদ্দিনের ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃত সৈয়দ সানজিদ ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার আশকোনার বাসিন্দা এবং সৈয়দ সাকিব হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য মাদরাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদন তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই আবেদনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল ও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর জাল করা হয়। পরবর্তীতে জাল স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত ওই আবেদনকে আসল বা খাঁটি দলিল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়।
জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা আবেদন ও কমিটির তালিকাটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে এলে তিনি অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আবেদনে থাকা স্বাক্ষরটি তার নয়, এটি জাল।
এরপর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজি কার্যালয়কে বিষয়টি জানানো হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেরাজুল ইসলাম সোহাগ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহা. নিয়ামতুল্লাহ ও কথিত উপপরিচালক সৈয়দ সানজিদকে হেফাজতে নেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যমতে গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কোনো এক সময়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করেন।
এ মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মাদরাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার গাজী লিটন ও বিপ্লব। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

ঢাকা পরিষ্কার করতে ফেব্রুয়ারিতে আসছে জাপানের ৩০ সদস্যের দল: ঢাবি উপাচার্য

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ১৭৯ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার, ২৫০ পয়েন্টে পয়েন্টে চেকপোস্ট

রাজধানীতে মেস থেকে জবি শিক্ষার্থী অনিক পালের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চাকরি ফিরে পেতে বিজিবি সদর দফতরে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের অবস্থান কর্মসূচি

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আজিজুল হককে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল

মহাখালীতে ব্রিটিশ টোবাকো ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

যাত্রীর টাকায় নজর, বাসে শ্বাসরোধে হত্যা: বাসচালকসহ গ্রেপ্তার ৩

