বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘ ১৫ বছরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক বিভেদ ভুলে অবশেষে এক মঞ্চে সমবেত হয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) শহরের ভিটিটিআই মাঠে অনুষ্ঠিত এই বিশাল যৌথ কর্মী সমাবেশে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য একযোগে শপথ নেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশ বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে যোগ দেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একত্রে একই মঞ্চে দেখে সাধারণ কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশটি এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্র ও নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, “আজকের এই ঐক্য প্রমাণ করে শেরপুর বিএনপির দুর্গ ছিল এবং আছে। আমাদের মাঝে আর কোনো ভেদাভেদ নেই। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষের বিজয়ের বিকল্প নেই।”
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ষড়যন্ত্রের দিন শেষ। আমরা এখন ইস্পাত কঠিন ঐক্যে আবদ্ধ। এই ঐক্যের জোরেই আমরা আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করব।”
শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কেএম মাহবুবুর রহমান, ফজলুর রহমান, কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না, শেরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ এবং বগুড়া জেলা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী সানভি প্রমুখ।
সমাবেশে যোগ দেওয়া তৃণমূলের কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির মধ্যে সাংগঠনিক দূরত্ব থাকায় তারা হতাশ ছিলেন। কিন্তু আজকের এই যৌথ সমাবেশের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্বের অবসান ঘটল, যা আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।


