বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরগুনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়। তাদের রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড দেশের ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর ইঙ্গিত বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মণির বক্তব্যে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ নানা কৌশলে আবার রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হতে চাইছে। তাঁর ভাষায়, সেই সময় রাজাকাররা বিপক্ষে না দাঁড়ালে দেশকে স্বাধীন করতে এত রক্ত ঝরাতে হতো না। ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি এবং দুই লাখ মা-বোনের ওপর নির্যাতনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যার দায় কার—তা জনতার বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানান।
জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় না থেকেও তারা বারবার দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। দুঃখ প্রকাশ বা ‘সরি’ বলার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের দায় মুছে যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে, মানুষ হত্যার পর অনেক বছর পরে অনুশোচনা দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সভায় উপস্থিত স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে মণি বলেন, যারা এক সময় এই দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছে, আজ তারাই ভোট চাইছে—এটা ভেবে দেখার বিষয়। ধর্মের নামে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, যদি ভোট দিয়ে জান্নাত পাওয়া যেত, তাহলে অপরাধীরা এমন রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হতো।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই—এ দেশের সবাই নাগরিক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে, তা সবাই ভোগ করবে। জান-মাল ও ধর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও আশ্বাস দেন।
নুরুল ইসলাম মণির বক্তব্যে বারবার উঠে আসে রাজনৈতিক সতর্কতার কথা। তাঁর মতে, দেশ ও মানুষের স্বার্থে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সব দিক বিবেচনা করেই ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


