সংসার চালাতে সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক জনাকীর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বুধবার জানান যে মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি তীব্র অর্থনৈতিক কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন। সরকারি বেতন দিয়ে বর্তমান বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় তিনি নতুন করে রোগী দেখা শুরু করেছেন।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় প্রশাসন আয়োজিত এক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। ওই অনুষ্ঠানে এলাকার দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুন। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে একটি ধারণা রয়েছে যে মন্ত্রিত্ব অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও লোভনীয় একটি বিষয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বেশ জটিল।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিত্ব কোনো আরামদায়ক বিষয় নয়। এটি অত্যন্ত কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে রাত দুইটা পর্যন্ত তাকে নিরলসভাবে সরকারি ফাইলপত্র ও মাঠপর্যায়ের কাজ করতে হয়।
সংসার চালানোর খরচ মেটানোর বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে যে সরকারি বেতন পান তা দিয়ে বর্তমান সময়ে সংসার চালানো কঠিন। এ কারণে তিনি সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে নিয়মিত চেম্বারে রোগী দেখছেন, যাতে সংসার কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে চালানো সম্ভব হয়।
অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাদের সমালোচনা করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকের বাহ্যিক পোশাকে এবং দৈনন্দিন চালচলনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিনি তাদের আয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, করদাতাদের তালিকায় তাদের নাম ও আয়কর ফাইলের কী অবস্থা তা জানা জরুরি। সবাইকে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বেই বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা তাদের সম্পদের বিবরণী ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন। এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তার বক্তব্য পেশ করেন।
তাছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক দল বিএনপির হাকিমপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ফেরদৌস রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক স্থানীয় সুধীজন এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যেই প্রতিবন্ধী ও দুস্থদের মাঝে নিয়মিতভাবে এই আর্থিক অনুদান ও সহায়তা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সবশেষে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, এই অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলার শতাধিক অসহায় মানুষের হাতে বিভিন্ন অঙ্কের আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করা শেখ হাসিনার অপরাধের শামিল, মন্তব্য রাশেদ খাঁনের

দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা বিএনপি কর্মীর

ছয় দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ, যানজট শঙ্কায় ক্ষমা চাইলেন পরওয়ার

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখলের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ওমরাহ পালন করলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কপালে চুমু দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত এমপি মুজিবুর

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন কে, জানাল আইন মন্ত্রণালয়

স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় মারা গেছেন

