নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন কে, জানাল আইন মন্ত্রণালয়

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। ভোটের ফলাফলের পর নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির জবাবে নিজেদের মতামত জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মত অনুযায়ী, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকারই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার সাংবিধানিক বিধান ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট মতামত চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি ফাইল পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় তাদের মতামত জানায়।
আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করেন। ফলে সেই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রেও ডেপুটি স্পিকারই সাংবিধানিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ।
আজকের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার। তাঁদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যও রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করায় আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণার পর আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনে হলেও এর সার্বিক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
বাংলাদেশে সর্বশেষ সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, বিপরীতে বদরুদ্দোজা চৌধুরী পান ৯২ ভোট।
এরপর দীর্ঘ সময় পর আবারও একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ কে পড়াবেন, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর সেই প্রশ্নেরও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় মারা গেছেন

আ. লীগ নিষিদ্ধ করেই গেছে, বিএনপি মুখ ফিরিয়ে নিলে জামায়াত কি রাজনীতি করতে পারবে: প্রতিমন্ত্রী

পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল

বিরোধী দল হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও ফোনালাপ নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজী নজরুলের এমপি পদ বাতিল হবে কি না, যা বললেন ইসি মাছউদ

সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খান

