চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রাজু মিয়া (১৯) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খনখাইয়া খালে মরদেহটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা।
পরে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রাজু মিয়া ওই এলাকার আব্দুল হাদী মুন্সির বাড়ির বাসিন্দা কবির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রাজু মিয়া প্রতিবেশী এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে দুজন পালিয়ে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে সামাজিক বৈঠক বসে। বৈঠকে পারিবারিকভাবে সমাধানও হয়।
তবে ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকেই রাজু মিয়ার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ২২ জানুয়ারি রাজুর বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তরুণীর বোনজামাই ফিরোজ আহমেদকে প্রধান আসামি করে নাম উল্লেখ করে ছয়জন এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক বৈঠকে আপাত সমাধান হলেও ফিরোজ আহমেদ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। পরে ২১ জানুয়ারি রাতে তিনি রাজু মিয়াকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর অন্য আসামিদের সহায়তায় রাজুকে অপহরণ করা হয়।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর খনখাইয়া খালে রাজুর মরদেহ পাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ফটিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।


