মিরপুরে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ১০৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নিল টাইগাররা। ম্যাচের শেষ বিকেলে নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ধসে পড়ে সফরকারী পাকিস্তান।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল বাংলাদেশের। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমাম-উল হক। করেন মাত্র ২ রান। এরপর একে একে ফিরে যান আজান আওয়াইস (১৫) ও অধিনায়ক শান মাসুদ (২)।
তবে চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আবদুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। তাদের ৫১ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও সেটি দীর্ঘ হয়নি। তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ফজল, করেন ৬৬ রান। পরের ওভারেই তাসকিনের শিকার হন সালমান আগা (২৬)।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে ভেঙে যায় পাকিস্তানের মিডল অর্ডার। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাউদ শাকিল—দুজনেই আউট হন ১৫ রানে। পরে তাইজুল ফেরান হাসান আলিকে (১)।
শেষ দিকে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস, তবে নাহিদ রানার শেষ আঘাতে থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ রানা, নেন ৫ উইকেট। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার। তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩ উইকেটে ১৫২ রান। প্রথম ইনিংসের লিড মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। শান্ত, মুশফিক, মুমিনুলসহ ব্যাটারদের অবদানে শক্ত অবস্থান তৈরি করে স্বাগতিকরা।
শেষ পর্যন্ত বল হাতে সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ।


