তফসিলি ব্যাংকের তুলনায় গ্রামীণ ব্যাংকের সুদ বেশি কেন: হাইকোর্টের প্রশ্ন

অন্বেষণ ডেস্ক : গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার কমানোর বিষয়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৮ মে) তফসিলি ব্যাংকগুলোর তুলনায় ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় গ্রামাঞ্চলে ভূমিহীন ঋণগ্রহীতাদের জন্য আরোপিত উচ্চ সুদের বিষয়ে এই আদেশ আসে।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল দেন। দেশের প্রান্তিক মানুষের আর্থিক সুরক্ষার দিক বিবেচনা করে এই রিট দায়ের করা হয়েছিল।
আদালত থেকে জারি করা এই রুলে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিবাদীদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব এবং গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
পাশাপাশি গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বর্তমান উপদেষ্টা বা পরামর্শককেও এই রুলের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য যে, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাসুদ আর সোবহান গত সপ্তাহে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে প্রাথমিক আইনি শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আর সোবহান নিজেই। শুনানিকালে তাঁকে সার্বিক আইনি সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের অপর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফাতেমা এস চৌধুরী।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন এবং সাইফুজ্জামান। তারা আদালতের সামনে রাষ্ট্রীয় আইন ও ব্যাংকিং নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রাথমিক শুনানির পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফাতেমা এস চৌধুরী সংবাদমাধ্যমের কাছে রুলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভূমিহীন ও দরিদ্রদের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের বিপরীতে সুদের হার তফসিলি ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার প্রায় ২০ ভাগের ওপরে। এই উচ্চ সুদের কারণে গ্রামীণ দরিদ্র ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন।
অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য তফসিলি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মটি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই গ্রাহকবান্ধব। যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে যেকোনো ধরনের ঋণ নেওয়া হলে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকরা বিশেষ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন।
ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী, কোনো ঋণগ্রহীতা যদি মূল ঋণের বিপরীতে সুদের দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ করে থাকেন, তাহলে তিনি সম্পূর্ণ দায় থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। দেশের অধিকাংশ ব্যাংক এই নীতি অনুসরণ করে থাকে।
অথচ গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্রঋণ নেওয়া দরিদ্র গ্রহীতারা এ ধরনের আইনি সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের এই গ্রাহকদের ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে ভারী থেকে যাচ্ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
তাই গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ভূমিহীন ক্ষুদ্র ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও এই সমান আইনি সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

শাজাহানপুরে আইসক্রিম কারখানায় বিএসটিআইয়ের জরিমানা

বিএসটিআই’র লাইসেন্স না থাকায় ধুনটে দুই ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুরে পুলিশি অভিযানে সাবেক ছাত্রনেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

বগুড়ায় সনদ ছাড়া পণ্য উৎপাদনের দায়ে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

শেরপুরে যুবকের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেরপুরে রাস্তা বন্ধ ও পুকুর দখলের অভিযোগ

মাকে খুনের অভিযোগে বাবা কারাগারে, ৯ মাস বয়সে মারা গেল অনাথ শিশু খুশবু

শেরপুরে ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

গাড়িবহরে হামলা ও বিস্ফোরণ মামলায় শেরপুরে যুবলীগ সভাপতি গ্রেফতার

