বগুড়ায় শজিমেকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও মোবাইল ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে সাজেদুর ইসলাম সাকি এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাজেদুর ইসলাম সাকি বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক রোগী মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, ইখলাস নামের অন্য এক রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আব্দুল মালেককে ভুল ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর পরপরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান।

এই মৃত্যুর বিষয়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও পরিচিত কয়েকজন হাসপাতালে গেলে আবাসিক এলাকা ও মেস থেকে আরও ইন্টার্ন চিকিৎসক জড়ো হন। পরে তারা সংঘবদ্ধভাবে স্বজনদের ওপর হামলা চালান।
সাজেদুর ইসলাম সাকি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসককে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বা বিনা কারণে আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল না। অথচ স্যালাইনের লোহার স্ট্যান্ড, কাঠের বাটাম ও চেয়ার দিয়ে আমাদের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়।’ হামলার পর কয়েকজনকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার নাফিউল ইসলামের স্ত্রী মিতু খাতুন অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে রাতে তার স্বামী হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ভোরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্বামীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি দাবি করে মিতু খাতুন বলেন, ‘বর্তমানে আমার স্বামী এক চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। চোখটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি নাফিউল ইসলামের দ্রুত জামিন ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
আহত প্রান্ত ইসলামের মা নাজনীন আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলের নাকের হাড় ও হাতের আঙুল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে বারবার বমি করলেও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ এ ঘটনায় নাজনীন আক্তার বাদী হয়ে শজিমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আনোয়ার হোসেনসহ ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী স্বজনদের দাবি, ঘটনার ৫৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা ও মানববন্ধন করা হচ্ছে। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, মোবাইল ফোনের ভিডিও এবং আহতদের চিকিৎসা সনদ পর্যালোচনা করলেই হামলার প্রকৃত চিত্র এবং কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিল তা স্পষ্ট হবে বলে তারা জানান। তারা চিকিৎসকদের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, শজিমেক হাসপাতালে রোগী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগে ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১২

বগুড়ায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে চলন্ত ট্রেনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ক্যান্টিন বয় গ্রেপ্তার

বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সান্তাহারে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই বেকারিকে জরিমানা ও পণ্য ধ্বংস

বগুড়ায় ড্রেন খননের সময় মাটির নিচে মিলল ৩৩৪টি গুলি

বগুড়ায় ইঁদুর ও কবুতরের বিষ্ঠার মাঝে তৈরি হচ্ছিল ফুচকা

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক শেরপুরের রুহান

দেড় টাকায় বিদ্যুৎ! উদ্ভাবনটি আসলে কার?

বগুড়ায় মানহীন দই তৈরির দায়ে ২ কারখানায় জরিমানা

