বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু, বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে নতুন করে সামনে এসেছে তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের নাম। নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের ফোন পেয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে নেওয়ার পর দীপের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিখোঁজ হওয়ার রাতে দুজনের চলাচল, অবস্থান এবং তাহসিফের মোটরসাইকেলের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শুক্রবার সকালে পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দীপকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামালও শুক্রবার সকালে জানান, দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাহসিফের নিখোঁজ মোটরসাইকেলটি শিগগির উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পাওয়ার পর নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন তার ছেলে। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তাহসিফ। তবে বার্তার ভাষা দেখে তাকে কিছুটা ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান বাবা।
এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
তাহসিফের পরিবারের এক নিকটাত্মীয় আবার মায়ের ফোনে পাঠানো সর্বশেষ ভয়েস মেসেজটির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, বার্তাটির কণ্ঠস্বর তাহসিফের বলে মনে হয়নি।
তদন্তে দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য একটি গ্যারেজে যান তারা। পরে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।
খাওয়া শেষে দুজন নিজেদের মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গে যাওয়ার পর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আলাদা হয়ে যান বলে জানিয়েছেন দীপ। এরপর তিনি নিজের বাসায় ফিরে গেলেও তাহসিফের পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।
দীপ সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল জানান, গ্যারেজ ও রেস্তোরাঁয় যাওয়ার বাইরে ওই রাতে তাহসিফ ও দীপ অন্য কোথাও গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে নিয়ে অনুসন্ধানও চালানো হচ্ছে।
তাহসিফ সাউরী আলোচনায় এসেছিলেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশ ছাড়েন। সেই মুহূর্তের ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ভিডিও ধারণের কারণে বিমানবাহিনীতে তার চাকরি চলে গিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তাহসিফের উত্তর ছিল, ‘হতে পারে।’
একই অনুষ্ঠানে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গও ওঠে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভিডিওটি নিয়ে বিমানবাহিনীর তদন্তে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে আসে এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তাহসিফের নামও ছিল।
জবাবে তাহসিফ বলেছিলেন, ‘আমার দেশ’-এর ওই প্রতিবেদন আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা।
গত বছরের ৪ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন নিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রতিবাদ জানায়। সংস্থাটির বক্তব্য ছিল, প্রতিবেদনে তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়।
আইএসপিআর জানায়, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওই দুই কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল। এর সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তবে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বৃহস্পতিবার জানান, ছেলের চাকরি চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং নেত্র নিউজে কাজ করেন বলেও জানান তিনি।
ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বাবা এনায়েতুল করিম। তার আশঙ্কা, তাহসিফকে হত্যা করে তুরাগে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দীপকে হেফাজতে নিয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পিবিআই। বিশেষ করে তাহসিফের নিখোঁজ মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং মৃত্যুর আগে তার চলাচলের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

বিকল্প বিমানে ফেরার সুযোগ থাকলেও সফরসঙ্গীদের ছেড়ে যাননি প্রধানমন্ত্রী: আতিকুর রহমান রুমন

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, জড়িতদের পরিণতি ভোগ করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

বাবার বিরুদ্ধে মাকে নির্যাতনের অভিযোগ তাশরীফের, ভরণপোষণ নিয়ে যা বললেন

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্ব হোক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির হাতিয়ার: প্রধানমন্ত্রী

মা ইলিশ রক্ষায় নদী-সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের কড়া নজরদারি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছি: আমজনতার তারেক রহমান

ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি

