শিশুদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়ে মেধা বিকাশের পথ তৈরি করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

শিশুদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাদের জানার পরিধি বাড়াতে এবং শৈশবেই মেধা বিকাশের পথ মসৃণ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শৈশবই মানুষের শেখার মূল সময়। এ সময় শিশুরা নানা বিষয়ে জানতে চাইবে এবং তাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতে হবে। শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পথ মসৃণ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু লেখাপড়া করলেই জীবন পূর্ণ হয় না। আগামী দিনের বাংলাদেশে শিশুদের খেলাধুলা, সংগীত ও সংস্কৃতিতেও দক্ষ হতে হবে। একটি দেশের কেবল অর্থনৈতিক উন্নতিই যথেষ্ট নয়, এসব সৃজনশীলতার সমন্বয়ই হলো দেশের 'সফট পাওয়ার'।
শিশু একাডেমির গুরুত্ব তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখান থেকে দেশের সব শিশুর জীবন গঠনে সমাজের বার্তা সারা দেশে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গড়ে তুলতে থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানুষ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। নদী, জলাশয় ও সমুদ্রে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এসব প্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষায় শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
পরিবারে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো বৈষম্য না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজের পারিবারিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার ছেলে যে সুযোগ পেয়েছে, মেয়েকেও তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করেছেন। খেলাধুলার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে নতুন করে খেলাধুলার চর্চা শুরু হয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেটে ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মেয়ে।
দেশের সব নাগরিককে সমান সুযোগ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাঁতি, কারুশিল্পী, কামার ও কুমারসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ ও বিগত দিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ একটি কঠিন অর্থনৈতিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। সবশেষে তিনি শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সঠিক পথনির্দেশনা দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির কাঠামো ধীরে ধীরে পরিবর্তন হবে: জাহেদ উর রহমান

‘আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা এগিয়ে যাব’: রাষ্ট্রপতির

সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের কাছে নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর দায় স্বীকার করে কার্যকর পদক্ষেপ নিন: জামায়াত আমির

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি আসা নিয়ে কোনো সংকট নেই: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

ঋণখেলাপির তালিকা থেকে সিরাজুল ইসলামকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

বিএনপিকে চাঁদাবাজ বললে জনগণই বিচার করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

