গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি আইফোন ও কিছু নগদ টাকার লোভে সিয়াম (১৮) নামে এক কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সোমবার (১০ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সিয়াম মুকসুদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের লিখন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে সিয়ামকে তার কয়েকজন বন্ধু বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
তদন্তে নেমে পুলিশ সিয়ামের কয়েকজন বন্ধুকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত পারভেজ মুন্সী ও দিদার মুন্সী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকের জন্য টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে তারা সিয়ামকে হত্যা করে। হত্যার পর তার ব্যবহৃত একটি দামি আইফোন ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে মরদেহটি বাঁশবাড়ীয়া হাসপাতালের পেছনের কাশবনের পাশের একটি পুকুরে কচুরিপানার নিচে ফেলে রাখা হয়।
অভিযুক্তরা পরে সিয়ামের আইফোনটি বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় বলেও জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ওই পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুকসুদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


