কবরস্থানের জমি নিয়ে ভগ্নিপতিকে মারধর, বাঁচাতে গিয়ে শ্যালক নিহত

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কবরস্থানের জমি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আনোয়ার ভূঁইয়া (৪২) নামের এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক এক সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার ভূঁইয়া ভূমখাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেকেন্দার ভূঁইয়ার ছেলে। হামলায় আহত সাবেক ইউপি সদস্য রুবেল ঢালীকে প্রথমে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আনোয়ার ভূঁইয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জাহেদুল ঢালীর বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় মানাখান জামে মসজিদের কবরস্থানের জমি নিয়ে ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য জাহেদুল ঢালী এবং একই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুবেল ঢালীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে কবরস্থানের জমি নিয়ে জাহেদুল ও রুবেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহেদুল ও তাঁর সহযোগীরা রড দিয়ে রুবেলকে আঘাত করেন। রুবেলকে রক্ষা করতে তাঁর শ্যালক আনোয়ার ভূঁইয়া এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থানান্তরের পথে সন্ধ্যার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। রুবেল ঢালীকে প্রথমে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও, রাত আটটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকেও ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাহেদুল ঢালী পলাতক রয়েছেন। তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মজিদ নিশ্চিত করেছেন যে, উত্তেজিত জনতা মানাখান গ্রামের একটি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নেভায়।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

হাদি হত্যা মামলার গ্রেফতার আসামিদের সাক্ষাৎ পেতে ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ চেয়েছে বাংলাদেশ

দেশে ভোজ্যতেলের সংকট নেই, দামও বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

মাদক মামলায় খালাস পেলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর

হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে উধাও স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজন

খোকন দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

ডিসির ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল

থানা থেকে ওসির মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুরে অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর

