শিশু রামিসার বাবার বক্তব্য ‘অমূলক নয়’, বললেন আইনমন্ত্রী

ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাবার ক্ষোভভরা বক্তব্যকে অমূলক নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এমন নৃশংস ঘটনা দেশের বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “মাগুরার আছিয়া, ঢাকার রামিসা, এসব ঘটনা আমাদের মানুষত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই অচ্যালেঞ্জড থাকতে দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, আলোচিত অনেক মামলায় দ্রুত বিচার শেষ হলেও রায় কার্যকরে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আছিয়ার মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, এক মাসে বিচারও শেষ হয়েছিল। কিন্তু এখনো ফাঁসি কার্যকর হয়নি। তাই রামিসার বাবা অমূলক কিছু বলেননি।”
বিচারব্যবস্থার মামলার জট কমাতে সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে দ্রুত পেপার বুক প্রস্তুত করা জরুরি। একই সঙ্গে রামিসা ও আছিয়া হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে বলেও জানান তিনি।
তবে বিচারপ্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রায়ের কার্যকর করার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাতে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না।”
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব মামলার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হবে এবং প্রসিকিউশন টিম মামলাগুলো ফাস্ট ট্র্যাকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকার পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে আট বছর বয়সী রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার বিচ্ছিন্ন মাথা। এ ঘটনায় পল্লবী থানা-এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় সোহেল রানাকে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল রামিসা। তার বাবা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। প্রায় ১৭ বছর ধরে পরিবারটি পল্লবীতে বসবাস করে আসছিল।
মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি কিছুই চাই না। কারণ বিচার আপনারা করতে পারবেন না।”
আরেক বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা বড়জোর ১৫ দিন। এরপর আরেকটা বড় ঘটনা আসবে, এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।”
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ: এমপি নজরুলকে তাহেরী

আ. লীগের মনোনয়ন অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত, অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

বদলে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট, যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি

পাঁচ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

শাপলা চত্বরের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা-ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ

চীনের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে পাশে থাকবে বাংলাদেশ: মির্জা ফখরুল

