চৌকা সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, লাঠি হাতে পাহারায় জনগণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর আরেকটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। শনিবার রাতজুড়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সঙ্গে পাহারায় অংশ নিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাঠিসোঁটা ও টর্চলাইট নিয়ে অনেকেই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। একই সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তিদের চলাফেরা নজরে রাখতে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে দ্রুত জানাতে বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করা হচ্ছে। মসজিদেও সচেতনতামূলক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চৌকা সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় ২০ জনকে নিয়ে আসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাদের মধ্যে ১১ জন নারী, পাঁচজন পুরুষ ও চারজন শিশু ছিল। বিজিবির বাধার মুখে দীর্ঘ সময় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করানোর পর শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে, ভোর ৬টার দিকে একই সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক অবস্থানের কারণে তারা শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে বিজিবি। তিনটি ব্যাটালিয়নে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের নদীপথ ও বিল এলাকায় নৌকা ব্যবহার করে টহল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলপথে বাইনোকুলার, ড্রোন ও নাইট ভিশন ক্যামেরার সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
গত ১৬ দিনের মধ্যে জেলার তিনটি সীমান্ত দিয়ে চার দফায় মোট ৬৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজিবির বাধার মুখে ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
এর মধ্যে গত ১৫ জুন রাতে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে তাকে ভারতের ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় বাংলাদেশে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে সীমান্তবর্তী এলাকার সাতজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।
এর আগে ১৩ জুন দিবাগত রাতে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবির বাধার মুখে কয়েক ঘণ্টা পর তাদেরও ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
এ ছাড়া গত ৪ জুন বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। টানা তিন দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর তাদেরও ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

সীমান্তে ফের উত্তেজনা, হামলায় তিন বাংলাদেশি আহত

নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় আটকে দিল বিজিবি

লাশের ওপর দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব পারে না: আসিফ নজরুল

সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া দক্ষিণ এশিয়ার জন্য উদ্বেগজনক: নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী

সীমান্তে দাদাবাবুদের বাহাদুরির দিন শেষ: নাহিদ ইসলাম

দুই বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, প্রতিবাদে দুই ভারতীয়কে ধরে আনল স্থানীয়রা

কোনও বিষয়েই ভারতকে ছাড় দেওয়া হবে না: বিজিবি মহাপরিচালক

বিএসএফকে মোকাবিলা করার জন্য বিজিবিই যথেষ্ট: লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া

সীমান্তে বিএসএফ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করছে, বিজিবিও করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

