টিকা নিয়ে সংকট কাটলেই তদন্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন

অন্বেষণ ডেস্ক : আজ বুধবার (১৩ মে ২০২৬) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ভুল বা অনিয়ম হয়ে থাকলে চলমান সংকট কাটার পর তা তদন্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেয়ে শিশুদের জীবন সুরক্ষাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য যে, দেশে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাবে ৪০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানাবিধ জটিলতায় সময়মতো টিকা কেনা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের টিকা প্রাপ্তিতে এই বিলম্বের কারণেই মূলত দেশজুড়ে হামের এমন ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। বিশেষ করে, আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের একটি অংশ মানববন্ধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন এ নিয়ে বিবৃতিও প্রদান করেছে।
উদ্ভূত এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, টিকা নিয়ে কী ভুল হয়েছে সেটি খোঁজার আগে মায়েদের সন্তান হারানোর বেদনা থামাতে হবে। সরকার এখন এই লক্ষ্যেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে হামের চিকিৎসাসেবা পুরোদমে চলমান রয়েছে।
আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসকেরাও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী জানান, হামের জটিলতার কারণে অনেক শিশুর নিউমোনিয়া হচ্ছে, যার শেষ চিকিৎসা হিসেবে ভেন্টিলেশন অত্যন্ত জরুরি।
এই সংকটকালে ভেন্টিলেটরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। একজন বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যালস উদ্যোক্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে, যা আজই বিভিন্ন হাসপাতালে গুরুত্ব অনুযায়ী বণ্টন করা হবে।
এদিকে টিকার সংকট নিরসনেও সুখবর দিয়েছে মন্ত্রণালয়। চীন সরকারের সহায়তায় সিনোভ্যাকের প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ টিকা ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। ফলে আগামী দিনে হাম, পোলিও এবং অ্যান্টি র্যাবিস (জলাতঙ্ক) টিকা প্রদান কার্যক্রমে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
সর্বশেষ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মজুত সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে এর কিছুটা ঘাটতি থাকলেও আগামী জুনের মধ্যেই পর্যাপ্ত ক্যাপসুল পাওয়া যাবে। নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের মাধ্যমে যেসব শিশু এখনো টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত টিকা দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ: এমপি নজরুলকে তাহেরী

আ. লীগের মনোনয়ন অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত, অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

বদলে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট, যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি

পাঁচ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

শাপলা চত্বরের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা-ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ

চীনের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে পাশে থাকবে বাংলাদেশ: মির্জা ফখরুল

জিয়া হত্যার ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার মেজর মোজাফফর, আত্মগোপনের জীবন নিয়ে নতুন প্রশ্ন

