শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার নীতিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুনরায় শক্ত অবস্থানে ফিরে আসা সহজ হবে না।
সম্প্রতি সময় সংবাদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান, জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন সমীকরণ এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে জনগণের কাছ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দলটির জন্য জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ এবং জনগণের কাছে ক্ষমা না চাইলে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিকভাবে পুনরুদ্ধারের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা অন্তর্বর্তী সরকার দিয়েছে। বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। অতীতেও অন্য কোনো দল নিষিদ্ধ হলে বিএনপি তার বিরোধিতা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তিনি দেখেন না। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ও সমালোচনা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আত্মসমালোচনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সাক্ষাৎকারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গও উঠে আসে। মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল কৃতিত্ব ছাত্রদের। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির জন্য কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, এনসিপি যদি স্বতন্ত্রভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করত, তাহলে তাদের সম্ভাবনা আরও বেশি হতে পারত। পাশাপাশি বিএনপির কিছু নেতাকর্মীকে দলে নেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি সাংগঠনিক দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তাঁর মতে, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায়ও সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর তাঁর বিশ্বাস, রাজনীতিবিদদেরও একটি নির্দিষ্ট সময়ে অবসরে যাওয়া উচিত। দলের কাউন্সিল সম্পন্ন করাকে তিনি এখন নিজের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে এরপর নিজের জন্য কিছু সময় নিতে চান তিনি।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি: জামায়াত আমির

ইউপি নির্বাচনে দলের কেউ মুনাফিকি করলে ক্ষমা করবেন না প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে কেন অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হলো: প্রশ্ন হাসনাতের

শিক্ষকদের জাতীয়করণে মায়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেবেই প্রধানমন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ‘বড় ভাই-ছোট ভাই’ নয়, সমতার হওয়া উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

নির্বাচন কমিশনার ও প্রতিমন্ত্রী 'হা-ডু-ডু' খেলছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করলেন এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক নেবে না সরকার: প্রতিমন্ত্রী

