সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী বৃদ্ধ বাবা-মাকে স্বস্তি দেবে: রুমিন ফারহানা

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দেশের কোটি কোটি বৃদ্ধ বাবা-মাকে স্বস্তি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, অনেক পরিবারেই বাবার কাছ থেকে সম্পদ লিখে নেওয়ার পর সেই বৃদ্ধ বাবা-মাকেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
প্রস্তাবিত আইনের ১২২এ(৪) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই ধারার অধীন দান কোনোভাবেই হেবা করার বিধানকে সংকুচিত করবে না। এই আইনটি দেশের অগণিত বাবা-মাকে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি সম্পত্তি সংক্রান্ত অনেক বিরোধ এড়াতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তি-স্বস্তি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। পরিবারের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

মূলত বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি হস্তান্তরের পর নিজেদের বসতবাড়ি ও সম্পত্তির ভোগদখল নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দূর করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আনা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তি তার সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি দান করলেও নিজের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার (জীবনস্বত্ব বা লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইট) নিজের কাছে রাখতে পারবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-তে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের ১২২এ ধারার বিধান অনুযায়ী, দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছে রেখে তা দান করতে পারবেন। এই দান বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানি থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির মধ্যে, আবার বিপরীতভাবেও এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হতে পারবে। তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই দান অবশ্যই নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলেও সম্পত্তির ওপর দাতার ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার বহাল থাকবে। তবে চিকিৎসা, শিক্ষা, আর্থিক বা পারিবারিক কোনো বিশেষ প্রয়োজনে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এই অধিকার পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আইনের ১২২এ(৪) উপধারায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই ধারার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তরকে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে প্রচলিত দান, হেবা বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে না। মূলত বাবা-মা যাতে সন্তানদের সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে নিজেদের বাসস্থান বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

দল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: ফেসবুকে জামায়াত নেতা

প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজের অভিযোগে আটক সিফাতের মুক্তি চাইলেন জামায়াত আমির

অতীতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়েছিল, সরকার ব্যবস্থা নেয়নি: নাহিদ ইসলাম

কেউ অভিযোগ করতে পারবে না মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদক সেবন করে: জামায়াত আমির

আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে: দুদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে `কাঠের চশমা' খুলতে হবে: জাতীয় নারীশক্তি

বুধবার দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

ছয় দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ, যানজট শঙ্কায় ক্ষমা চাইলেন পরওয়ার

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখলের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

