নতুন সরকারে শপথ নিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর কাছে তিন ধাপে ১০০ জন করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে।
পরে বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। শপথ অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।
সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার বিএনপির পছন্দ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবন-এর উন্মুক্ত চত্বরে এই আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণ প্লাজায় নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল অস্থায়ী মঞ্চ ও ভিভিআইপি জোন। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন মেরামত করে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাত্রা শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী; দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।
নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর মধ্য দিয়ে একটি ক্রান্তিকালীন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
আজকের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে।


