সারা দেশে মামলা দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল ‘বাণিজ্য’ করেছে এবং ভোটের সময় সেই মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রলোভন দেখাচ্ছে—একে জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী প্রীতম দাসের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “তারা একসময় ৩১ দফা সংস্কারের কথা বলেছিল। কিন্তু নিজেরাই সেই প্রতিশ্রুতি বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আবার নতুন করে মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে। এসব কথায় জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না কোনো আসন নষ্ট হোক। কোনো আসন যেন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা যারা নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়—তাদের হাতে না যায়। আমাদের নিজেদের ভেদাভেদের কারণেই যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”
এনসিপি নেতা ও প্রার্থী প্রীতম দাসের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রীতম দাস এই এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। চা-বাগানের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট আমলে তাকে জেল খাটতে হয়েছে।”
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, এটি একটি গণভোট। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান ঠেকাতে জনগণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের রায় দেবে।”
নাম উল্লেখ না করে একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অতীতের মতো আবারও হামলা, মামলা ও সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এবার ১১ দল ঐক্যবদ্ধ। দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই সন্ত্রাসী রাজনীতি আর মেনে নেওয়া হবে না।”
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, আজ তাদেরই পুনর্বাসনের চেষ্টা হচ্ছে। এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।”


