রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করে জনমতের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনরায়কে ‘হত্যা’ করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আলেম-ওলামাদের সম্মানে এই ইফতারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধানের কথা যদি মানা হয়, তাহলে বাস্তবতার সঙ্গে অনেক প্রশ্ন সামনে আসে। তার ভাষায়, “সংবিধান অনুযায়ী বিচার করলে এখনও শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। বর্তমান নির্বাচনও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে ছিল না, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও সংবিধানে উল্লেখ নেই।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন-পরবর্তী যেসব তথ্য সামনে আসছে, তা উদ্বেগজনক। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান-কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পুরো বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। তার অভিযোগ, নির্বাচনী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সঙ্গে জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচনের পর যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা ভয়ংকর। রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি ওই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”
এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশে এমন একটি শক্তি রয়েছে, যারা অতীতে নারী নীতি পরিবর্তন করেছিল। তিনি আরও বলেন, যদি সেই শক্তির একটি অংশ বিরোধী দল হিসেবেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে, তবে তাদের রাজনীতির যে দিকগুলো নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমঅধিকারের বিরোধিতা করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করাই হবে আমাদের দায়িত্ব। যেন এমন কোনো শক্তি ভবিষ্যতে মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।


