অন্বেষণ ডেস্ক : চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে একটি শব্দ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ ঘটে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মূলত ‘ছাত্র’ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়েই উত্তেজনার সূত্রপাত।
ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে। জানা গেছে, সোমবার রাতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী একটি গ্রাফিতির লেখা পরিবর্তন করে দেন।
সেখানে আগে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। পরবর্তীতে তারা ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আজ সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন জানান, গ্রাফিতির লেখা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর কলেজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিনের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিকেল চারটায় নতুন করে আবারও উত্তেজনা ছড়ায়। ওই সময় নিউমার্কেট মোড় থেকে শিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজের দিকে অগ্রসর হয়। তখন কলেজের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের সব দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র এবং অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা গেছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় তাদের অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আশরাফ হোসেন নামের এক কর্মীর গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হামলার এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রাফিতিতে কেবল ‘গুপ্ত’ লেখা হয়েছে। যদি তারা গুপ্ত সংগঠন না হয়, তবে এই লেখায় কেন তাদের আপত্তি থাকবে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন। তারা মিছিল নিয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন। উল্লেখ্য যে, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানিয়েছেন, সামি মো. আলাউদ্দিন নামে এক আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মাথায় সেলাই দেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বাসায় নিয়ে গেছেন।
কয়েক দশক ধরে এই ক্যাম্পাসটি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসটিকে রাজনীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল উভয়েই সক্রিয় হয়ে উঠলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়।


