যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির খোঁজ এখনও মেলেনি। তবে এরই মধ্যে তার মৃত্যুর দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা, যা ঘটনাটিকে আরও গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত লেখেন, তাদের বোন আর বেঁচে নেই। সংক্ষিপ্ত ওই বার্তায় তিনি শোক প্রকাশ করেন।
পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ফোনে সম্ভাব্য মৃত্যুর খবর দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি স্থানে পাওয়া দেহাংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পুরো মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে বৃষ্টিকে উদ্ধারের জন্য ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেতুর আশপাশের পানিতে ডুবুরি দল অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। ঘটনাস্থল ঘিরে এখনো কার্যক্রম চলছে।
এর আগে একই ঘটনায় নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল হাসান লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকার ওই সেতু থেকে তার মরদেহ পাওয়া গেছে।
জামিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল বলে জানা যায়।
ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সহিংসতা, অবৈধভাবে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা এবং মরদেহ গোপন করার অভিযোগ।
তদন্ত এখনো চলমান। নিখোঁজ বৃষ্টির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।


