নেত্রকোনার পূর্বধলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা এক আসামিও রয়েছেন, অন্যরা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহারে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা। পথে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে জ্বালানি নিতে থামেন। পরে তিনি সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গেলে একদল যুবক মোটরসাইকেলে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
একপর্যায়ে ওই যুবকেরা এমপির গাড়িতে ভাঙচুর চালান। নামাজ শেষে বের হতে গেলে তাকে ধাওয়া করে ফিলিং স্টেশনের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংসদ সদস্যকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে অন্য একটি গাড়িতে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাতে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমপি মাছুম মোস্তফা দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি করা বিএনপি নেতা আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং বিষয়টি জানতে পেরে দলের অন্য নেতাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


