টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, অন্তত পাঁচটি জেলার নিম্নাঞ্চল এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
কেন্দ্রটির উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় প্রাথমিকভাবে বন্যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাসের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে—১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা—এই চারটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে মনু নদী ছাড়া বাকি তিনটি নদী নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে—কোথাও কোথাও এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব নদী তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারি বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বাড়ে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমে এলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।


