জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তরুণ মাফল বিদেশে গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রায় দেড় মাস আগে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। কিন্তু স্বপ্নের সেই যাত্রা শেষ হয়েছে মৃত্যুর খবরে। পরিবারের দাবি, রাশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৫ জুন) স্বজনদের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছালে চর গুজামানিকা গ্রামে নেমে আসে শোকের আবহ। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন তার বাড়িতে।
নিহত মাফল মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় কৃষক বানু মিয়ার ছেলে।
স্বজনরা জানান, একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন মাফল। সেখানে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে দেশ ছাড়ার কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। গত ২৯ মে’র পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর তারা মৃত্যুর সংবাদ পান।
নিহতের চাচা আনিসের ভাষ্য, কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গেলেও পরবর্তীতে মাফলকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে তারা জানতে পারেন। এরপর তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই ড্রোন হামলার ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের কাছে তথ্য এসেছে।
মাফলের ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সবাই এখন গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন। তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে যেন দ্রুত তার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বোন আছিয়াও একই দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাফলের সঙ্গে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। পরে তাদের সামরিক ক্যাম্পে নেওয়া হয় বলে পরিবার জানতে পারে। এখন স্বজনদের একমাত্র চাওয়া, মরদেহ দেশে এনে শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারা।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, রাশিয়ায় একজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।


