মুন্সীগঞ্জে জসিম হত্যাকাণ্ড পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে: সেনাবাহিনী

মুন্সীগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত জসিম উদ্দিনের ঘটনা মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষ ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকলেও হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল পারিবারিক কলহ—এমনটাই জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজ-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ১৯ বীরের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। নির্বাচনের পর কথাকাটাকাটির মধ্য দিয়ে সেই বিরোধ আবার উসকে ওঠে। রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা হলেও ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন জেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। তবে কয়েকটি স্থানে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোল্লাকান্দি এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। শ্রীনগর-এ দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আনন্দপুর ও মোল্লাকান্দি এলাকায় উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলে সেখানে টহল জোরদার করা হয়। পাশাপাশি আগলা এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জসিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ বলেন, চর আব্দুল্লাপুর এলাকায় ডাক্তার নাসিরের পক্ষ ও জসিমের পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্কের অবনতি চলছিল। পারিবারিক সূত্রে তাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। নির্বাচনের পর সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রথমে হাতাহাতি হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে অতর্কিত হামলায় জসিম গুরুতর আহত হন। তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন এই সেনা কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোল্লাকান্দিসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেনা মোতায়েন রয়েছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

বন্যার্তদের পাশে সেনা-নৌবাহিনী, পৌঁছে দিচ্ছে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা

জনগণের গভীর আস্থা সেনাবাহিনীর ওপর: মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

চাঁদাবাজির সময় সেনাবাহিনীর হাতে আটক ৪

বিচারকের বাসভবনে ককটেল বিস্ফোরণ: গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার

বগুড়ায় সেনা অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সন্দেহে বিদেশি অস্ত্রসহ যুবক আটক

বগুড়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক

চট্টগ্রামে সেনা অভিযানে অস্ত্রসহ দুই মামলার আসামি গ্রেফতার

পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে জালে উঠল ককটেল সদৃশ বিস্ফোরকভর্তি ব্যাগ

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, নারী আটক

