নড়াইলে শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে মারধরের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

নড়াইল সদর উপজেলার আর.বি.এফ.এম ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মুমিন হাওলাদার (১৩)। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন—বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু ও ইসরাফিল হোসেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুমিনের বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করায় ছোটবেলা থেকেই সে তার দাদির কাছে বড় হচ্ছে। শৈশবে এক দুর্ঘটনায় তার মাথায় ৩২টি সেলাই দিতে হয়েছিল, যার ফলে সে শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল। মারধরের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে মুমিনকে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে যশোরে সিটিস্ক্যান করানোর পর বর্তমানে সে খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী মুমিন হাওলাদার জানায়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারি হচ্ছিল। সে বিষয়টি দেখতে সেখানে গেলে শিক্ষকরা তাকে ধরে ক্লাসরুমে নিয়ে যান। সেখানে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু ও ইসরাফিল হোসেন তাকে মারধর করেন। এ সময় শিক্ষকরা দেয়ালের সঙ্গে তার মাথায় আঘাত করেন, চুল ধরে টানেন এবং বেত দিয়ে পেটান। মারধরের পর মাথায় তীব্র ব্যথা শুরু হলে সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না এবং বারবার অচেতন হয়ে বমি করতে থাকে।
এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, নড়াইল সদর থানার ওসির প্রতিনিধি এবং নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
ঘটনার সময় মুমিনের সঙ্গে থাকা সপ্তম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জানায়, মারামারির পর শিক্ষকরা তাদের ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে সবাইকে মারধর করেছিলেন। তবে মুমিনকে তুলনামূলক কম মারা হয়েছে বলে দাবি করে সে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত দুই সহকারী শিক্ষক মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু বলেন, সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণির একজনকে মারধর করছে শুনে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মুমিনসহ কয়েকজনকে পেয়ে সরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কিন্তু কাউকে মারধর করা হয়নি। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের জানিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
অন্য অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইসরাফিল হোসেনও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, মুমিনসহ কয়েকজন ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করায় তাদের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে অভিভাবকদের জানানো হয়েছিল। অভিভাবকরা এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমিন হাওলাদারকে দেখতে যান নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবির। তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

দেশ গঠনে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে: সেনাপ্রধান

ইসি শাপলা প্রতীক না দিলে রাস্তায় নামবে এনসিপি: সারজিস আলম

ধর্মের দোহাই দিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে একটি গোষ্ঠী: বিএনপি নেতা সোহেল

দুর্নীতির প্রভাব থেকে সব গণমাধ্যম এখনো মুক্ত নয়: গোলাম পরওয়ার

শিশু মেয়েকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে হত্যার অভিযোগ, মা আটক

নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজনের মৃত্যু

ঘরের আড়ায় প্রথম স্ত্রীর মরদেহ ঝুলছিল, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে উধাও স্বামী

সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রথম আলোর সাংবাদিককে হুমকি

নড়াইলের কালিয়ায় ধানখেত থেকে শিশুর হাত বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

