৮০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি, কাঁচামরিচ ৩০০ ছুঁইছুঁই

টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার প্রভাবে রাজশাহীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজির বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। অধিকাংশ সবজি এখন ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কাঁচামরিচের দাম পৌঁছেছে প্রায় ৩০০ টাকায়।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে নগরীর সাহেববাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের ক্রেতারা।
বাজারে বর্তমানে পেঁপে, পটল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স ও ঝিঙে কিছুটা কম দামে মিলছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, পটল ৫০, চিচিঙ্গা ৫০, ঢেঁড়স ৬০ এবং ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে এসব ছাড়া অন্য বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে।

সাহেববাজারের বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১০০, টমেটো ২২০, গাজর ১৪০, কাঁচামরিচ ২৮০ থেকে ২৯০, করলা ৮০ থেকে ৮৫, বরবটি ৮০ এবং কাঁকরোল ও কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা দরে। এছাড়া কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ এবং চাল কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
সবজি বিক্রেতা জসিম বলেন, “বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। দাম বাড়ায় ক্রেতারাও আগের মতো বেশি করে কিনছেন না।”
মাস্টারপাড়া বাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী রবিউল আলম তুষার বলেন, কয়েকদিন আগেও ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ বাজার করা যেত, এখন একই বাজার করতে প্রায় দ্বিগুণ টাকা খরচ হচ্ছে। সবজির বাজারে কোনো স্বস্তি নেই।
তেরোখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বলেন, “বাজারে ৭০-৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। দাম বেশি হওয়ায় আজ শুধু আলু কিনেই বাড়ি ফিরেছি।”
শুধু সবজি নয়, ডিম ও মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখা গেছে। বাজারে দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০, ফার্মের লাল ডিম ৪৪ এবং সাদা ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম উঠেছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ২৫০ থেকে ২৬০ এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি।
মাছের বাজারেও কিছুটা বেড়েছে দাম। রুই বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০, তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ২১০ এবং পাঙাশ ১৯০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টি ও বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আবার কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

তোরা আমাকে বারবার মেরে ফেলিস কেন গরিবেরা, বললেন সেফুদা

মাইলস্টোন স্কুলে ছেলেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ সেই মায়ের লাশ শনাক্ত

নওগাঁয় ১৪ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

রাজশাহীতে মানসনদহীন লাইভ বেকারীকে জরিমানা

কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, রাজশাহীতে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ

কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করা সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

পাম্পে তেল নিতে এসে জরিমানা গুণলেন ৭ মোটরসাইকেলচালক

রাজশাহীতে বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে গভীর নলকূপে দুই বছরের সাজিদ, ২৪ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি

