ভাইরাল সেই ছবি নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন মেসি

বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের দুই তারকা। একজন কিংবদন্তির আসনে, অন্যজন ভবিষ্যতের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি। বহু বছর আগে তোলা একটি সাধারণ ছবি আজ সেই দুই নামকে এক অদ্ভুত বন্ধনে বেঁধেছে। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভাইরাল হয়ে ওঠা সেই ছবি নিয়ে এবার নিজের অনুভূতির কথা জানালেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো ছবিটি নিয়ে অনেকেরই ধারণা ছিল, এটি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। পরে জানা যায়, ছবিটি একেবারেই বাস্তব।
২০০৭ সালে বার্সেলোনায় স্থানীয় ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্ট এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, তরুণ মেসি শিশু লামিন ইয়ামালকে গোসল করাতে সহায়তা করছেন। প্রায় ১৮ বছর পর ভাগ্যের অদ্ভুত পরিহাসে সেই শিশুই এখন স্পেনের জার্সিতে, আর মেসি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফিফার ফ্যানাটিকস ফেস্ট-এ অংশ নিয়ে ছবিটি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান মেসি।
তিনি বলেন, “ছবিটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। তখন সে ছিল একেবারে ছোট্ট শিশু। সেই সময় তার সঙ্গে আমার এই ছবিটি তোলা হয়েছিল। আর আজ আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো।”
শুধু স্মৃতিচারণই নয়, ইয়ামালের প্রশংসাতেও ছিলেন উদার আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির ভাষ্য, এত অল্প বয়সেই স্পেনের হয়ে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে ইয়ামাল।
তিনি বলেন, “ও অসাধারণ একজন ফুটবলার। এত কম বয়সেই স্পেনের হয়ে ইউরো জিতেছে। ওর সামনে এখনও পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে। আমি সবসময় ওর সাফল্য কামনা করি।”
তবে প্রশংসার মাঝেও ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ভুলে যাননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
হাস্যরসের সুরে মেসি বলেন, “আমি চাই না এবার সে চ্যাম্পিয়ন হোক। কারণ আমরাও শিরোপা জিততে চাই। সে জন্য মাঠে আমাদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব।”
এদিকে ভাইরাল সেই ছবি দেখে বিস্ময়ের কথা জানিয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোও। তার ভাষায়, প্রথমবার ছবিটি দেখার পর তিনি ভেবেছিলেন এটি হয়তো এআইয়ের তৈরি কোনো ছবি। পরে বাস্তবতা জানার পর বিষয়টি তাকে আরও বিস্মিত করেছে।
মেরিনো বলেন, “ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড় এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আরেক তারকার এমন একটি ছবি সত্যিই অসাধারণ। আশা করি, এই দুই ফুটবলারকে ঘিরে আমরা একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে পাব।”
একসময় একই ফ্রেমে ধরা পড়েছিল একটি শিশুর নিষ্পাপ মুহূর্ত আর তরুণ এক ফুটবলারের হাসিমাখা মুখ। সময়ের ব্যবধানে সেই ছবিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রতীকগুলোর একটি—যেখানে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ যেন একই গল্পে মিলেমিশে গেছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রদল নেতা, কেন্দ্র সচিবকে শোকজ

ক্ষমতার লোভে শেখ মুজিবও কারচুপি করেছিলেন: আদালতে হাবিবুল আউয়াল

শিরোপার লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ হাসি, জানাল এআই

যুক্তরাষ্ট্র বিদায়, এবার ইংল্যান্ডের হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চান ট্রাম্প প্রশাসন

ফিফার নতুন নিয়ম ম্যাচটা নষ্ট করে দিয়েছে: সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন

অতিরিক্ত সময়ের ঝলকে শেষ চারের টিকিট পেল আর্জেন্টিনা

রোনালদোর মহিমা অন্য পর্যায়ের, অরা’র উদাহরণ তিনিই: ইয়ামাল

মেসিকে টিকিয়ে রাখতেই সব আয়োজন: মিশরের কোচ হোসাম হাসান

‘আমাদের একজন সালাহ, ২৬ জন মেসি’, মিশরের সহকারী কোচ

