নাটোরের বড়াইগ্রামে তেল সরবরাহে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার আহম্মেদপুর এলাকায় অবস্থিত কানন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ফজর আলী জানান, সন্ধ্যায় প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ পায় পাম্পটি। পরে তা ক্রেতাদের কাছে একটানা বিক্রি করা হয়। রাত দেড়টার দিকে কর্মচারীরা খাবার খেতে গেলে স্থানীয় ট্রাকচালক আব্দুল ওয়াহাব তাৎক্ষণিকভাবে তেল দেওয়ার দাবি করেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ক্যাশ কাউন্টারের সামনের কাঁচের দেয়াল, ক্যাশ রুম ও ব্যবস্থাপকের কক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দুটি কক্ষের আসবাবপত্রও তছনছ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি চলে যান।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শিহাব উদ্দিন বলেন, “দুই দশকের চাকরিজীবনে এমন আচরণ কখনো দেখিনি। সামান্য অপেক্ষার বিষয় নিয়ে এভাবে ভাঙচুর করা অস্বাভাবিক। এতে কর্মচারীরাও লাঞ্ছিত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাকচালক আব্দুল ওয়াহাব। তিনি দাবি করেন, কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে অপেক্ষা করার পরও তাকে তেল দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষ নিয়ম ভেঙে বনলতা অটো ইটভাটার গাড়িতে একটানা তেল দিচ্ছিল। তিনি শুধু এর প্রতিবাদ করেছেন, ভাঙচুর করেননি।
ফিলিং স্টেশনের মালিক ধীরেন্দ্রনাথ সাহা জানান, কর্মচারীরা খাবার খেতে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত চালক তাৎক্ষণিক তেল না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ভাঙচুর করেন এবং কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিষয়টি পুলিশ ও জেলা পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
ইটভাটার গাড়িতে তেল দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ক্রেতা হওয়ায় তাদের তেল দেওয়া হচ্ছিল। তবে সেটিকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের কোনো যুক্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


