বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক গত তিন দিন ধরে মহাসড়কের পাশে আটকে আছে। জ্বালানি না পেয়ে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত পাম্পে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। এতে পণ্য সরবরাহ ও চালকদের দৈনন্দিন আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার মেসার্স কুদ্দুস এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেলের জন্য অন্তত দেড় শতাধিক ট্রাক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কক্সবাজারগামী চাল ভর্তি ট্রাকের চালক মো. সেলিম জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে তিনি তেলের অপেক্ষায় আছেন। তেল না পাওয়ায় সঠিক সময়ে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে আয় কমে যাওয়ায় অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
শুধু কুদ্দুস এন্ড সন্স নয়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশন, তৌহিদ ফিলিং স্টেশন ও মির্জাপুর ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। চালকদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাজারে তেল সংকট তৈরি হয়েছে। মার্চ মাসে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। তেল না পাওয়ায় গাড়ির চাকা ঘুরছে না, ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্রাক মালিক এস বাপ্পি মহন্ত ও মো. রাজু জানান, শেরপুর থেকে প্রতিদিন চাল, রাইস ব্যান্ড, ভুট্টা, সবজি ও পোল্ট্রি ফিডসহ বিভিন্ন পণ্য সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। ডিজেল সংকটের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সময়মতো তেল না পাওয়ায় ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় পাম্পে পড়ে থাকছে।
শেরপুর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জানান, শেরপুর ও ধুনট উপজেলায় ডিজেলচালিত অন্তত ৫ হাজার গাড়ি রয়েছে। তেল সংকটের কারণে শ্রমিক পরিবারগুলো দুশ্চিন্তায় পড়েছে। দিন যত যাচ্ছে, এই সংকট তত প্রকট হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে কুদ্দুস এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আকরাম হোসেন বলেন, “গত বুধবার যে পরিমাণ তেল এসেছিল তা সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে তেল না আসায় পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। লরি পাঠানো হয়েছে, তেল আসলে সরবরাহ শুরু হবে।”
উপজেলার স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক তুলিপ কুমার সাহা বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছিলাম, যা মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন তেল না আসা পর্যন্ত আমাদের কিছুই করার নেই।”
ডিজেল সংকটের কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী পণ্য সরবরাহ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি রাজধানী থেকেও উত্তরবঙ্গমুখী ট্রাকের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এর ফলে সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি সেচ কাজেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


