আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে নিজের পরিচয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। মামলার নথিতে তাকে ‘বরখাস্ত’ হিসেবে উল্লেখ করায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ ঘটনা ঘটে। শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জিয়াউল আহসান আদালতের উদ্দেশে বলেন, তিনি বরখাস্ত নন, বরং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
শুনানির এক পর্যায়ে অভিযোগপত্র তার হাতে দেওয়া হলে নথি পর্যালোচনার সময় তিনি বলেন,
“মাননীয় আদালত, আমি বরখাস্ত নই। কিন্তু এখানে বরখাস্ত লেখা হয়েছে। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমাকে বরখাস্ত বলা হচ্ছে।”
তবে ট্রাইব্যুনাল এ সময় তাকে জানায়, আসামির পক্ষে তার আইনজীবীই বক্তব্য উপস্থাপন করবেন এবং আসামিকে এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে হবে না।
এদিন গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি দুই আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে।
পরে আদালত আগামী ২১ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে একদিন করে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও দেওয়া হয়।
জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, তার মক্কেল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। ‘বরখাস্ত’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি আদালতে আপত্তি জানিয়েছেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে তুলে নেওয়ার পর গুম ও হত্যার ঘটনায় এ মামলা করা হয়। ওই ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।


