বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত গভীর কুয়ায় দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে আটকে থাকা দুটি শিয়ালের বাচ্চাকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৬টার দিকে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের খিকিন্দা পূর্ব গ্রামের একটি কৃষি জমি থেকে বাচ্চা দুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর প্রাথমিক সেবা ও পর্যবেক্ষণ শেষে সেগুলোকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খিকিন্দা পূর্ব গ্রামের মাঠের মাঝে একটি গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত কুয়া থেকে বেশ কিছুদিন ধরে শিয়ালের বাচ্চার আর্তনাদ ভেসে আসছিল। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার কর্মীদের জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, “বাচ্চা দুটি প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই গভীর কুয়ায় আটকে ছিল। কোনো খাবার ও পানি ছাড়া দীর্ঘ সময় বন্দি থাকায় প্রাণি দুটি অত্যন্ত দুর্বল, ক্ষুধার্ত ও ভীত হয়ে পড়েছিল। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গভীর নলকূপের ওই পরিত্যক্ত কুয়া থেকে সেগুলোকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করি এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা শেষে লোকালয় থেকে দূরে একটি নিরাপদ ঝোপঝাড়পূর্ণ বনে অবমুক্ত করি। যেন তারা পুনরায় তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে।”
পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় সাগর বলেন, উদ্ধারকৃত বাচ্চাগুলো ‘পাতিশিয়াল’ প্রজাতির। ইংরেজিতে ‘গোল্ডেন জ্যাকল’ নামের এই পাতিশিয়ালের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতা। এরা যেকোনো পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হলেও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকটে আজ এই প্রজাতিটি হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এসব বন্যপ্রাণী আমাদের বাস্তুসংস্থানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জনসাধারণের সচেতনতার কারণেই আজ এই প্রাণ দুটি রক্ষা পেল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীকে শত্রু না ভেবে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার এই সময়োচিত ও মানবিক পদক্ষেপ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।


