বগুড়ায় কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে এক এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (তারিখ) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়া খানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। কিছুদিন ধরে মাথাব্যথায় ভোগার কারণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তাতে সুরাহা না হওয়ায় পরিচিত এক ব্যক্তির পরামর্শে গত ৩ মে সকালে তাঁকে নিয়ে ওই কবিরাজের কাছে যান তার বাবা।
সেখানে অভিযুক্ত কিশোরীর শরীরে ‘জ্বীনের আসর’ রয়েছে বলে দাবি করেন এবং ঝাড়ফুঁক করার কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি কিশোরীকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং অন্যদের বাইরে থাকতে বলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় চিকিৎসার অজুহাতে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
একই দিন বিকেলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়ে আবার আসতে বলা হয় পরিবারকে। পরে তারা পুনরায় সেখানে গেলে একই কৌশলে কিশোরীকে আবার কক্ষে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরী বিষয়টি পরিবারের কাছে জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


