বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক ছাত্রদল নেতার স্ত্রীকে আটকে রাখার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন সালমির ইসলাম নামের এক সংবাদকর্মী। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শিমলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সংবাদকর্মীকে উদ্ধার করে এবং তার আটকে রাখা মোটরসাইকেল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
আহত সালমির ইসলাম দৈনিক ভোরের ডাক-এর উপজেলা সংবাদদাতা এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য। হামলার পর তাকে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিজরুলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, নন্দীগ্রামের মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিল প্রায় দেড় বছর আগে ইভা খাতুনের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ইভা খাতুনের বাবা আলমগীর হোসেন এই বিয়ে মেনে না নিলেও সম্প্রতি সমঝোতার কথা বলে মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ ওঠে, আলমগীর হোসেন মেয়েকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ডিভোর্স করানোর চেষ্টা করছেন এবং মারধর করছেন।
এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়েকজন সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেনের বাড়িতে যান। তথ্য জানতে চাইলে আলমগীর ও তার সহযোগীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডার মধ্যে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে সালমির ইসলাম পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল ও গণমাধ্যমের সরঞ্জাম আটকে রাখে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালমির ইসলামকে উদ্ধার করে। তার শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে এমন হামলার ঘটনায় প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, “সংবাদকর্মীর ওপর হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতোয়ার রহমান জানান, বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে মালামাল উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


