চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে মুক্তিপণ দাবির একটি চিরকুট ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। অপহরণের পর দেওয়া ওই বার্তায় পরিবারের উদ্দেশে ভয়ভীতি দেখানোর কথাও ছিল বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়হান একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবার।
পরদিন বিকেলে ঘরের শয়নকক্ষে বিছানার ওপর একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ ছিল, শিশুটি তাদের কাছে আছে এবং তাকে ফেরত পেতে হলে ৩ লাখ টাকা ও পরিবারের একজনের মোবাইল আনলক করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। চিরকুটে হুমকি দিয়ে বলা হয়, বিষয়টি পুলিশের কাছে গেলে শিশুটিকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না, এমন ইঙ্গিতও ছিল।
চিরকুটটি পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি জব্দ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে স্বজনদের অভিযোগ, টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। পরে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্তরা প্রতিবেশী হিসেবে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভানও করছিল।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


