তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ ধরে রাখতে ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, নদী ড্রেজিং এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, মহাসড়কগুলোতে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি রেলপথে সময় কমাতে ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হজের খরচ কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ নির্ধারণে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে যাতে সাধারণ মুসল্লিদের ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমে আসে।
পরিশেষে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে ভূ-গর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।


