নতুন বাজেটের রাজস্ব আদায় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক ঋণ মূল্যায়ন সংস্থা ফিচ রেটিংস। মঙ্গলবার হংকং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কর আদায় ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড দুর্বল হওয়ায় এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
নতুন এই বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০.২ শতাংশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৯৩ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বার্ষিক ১৮ শতাংশ হারে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠিন।
অন্যদিকে, সরকার নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ আশা করলেও, ফিচ রেটিংস বলছে এই প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সংস্থাটির মতে, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি খাতে ঋণের মন্দা এবং বিনিয়োগের ওপর ক্রমাগত চাপের কারণেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হতে পারে।
উল্লেখ্য, বাজেটে ১৯ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বড় একটি অংশ সামাজিক খাত ও ভৌত অবকাঠামোতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অতীতে বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে রাজস্ব ও ব্যয় উভয়ই লক্ষ্যের চেয়ে কম থাকার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এতে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩.৬ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর আদায় বাড়াতে ফিচ রেটিংস সহজ কর পদ্ধতি প্রবর্তন, কর ছাড় কমানো এবং এসএমই খাতের ভ্যাট পরিপালন সহজ করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে অতীতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে এসব পদক্ষেপের সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক।
এছাড়া প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে কিছু ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে সবকিছুর চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে সরকার অতীতের তুলনায় কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।


