গ্যাসের সংকটে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, দুর্ভোগে ঢাকার মানুষ

ঢাকার সড়কে গাড়ির সংখ্যা কমেনি, যাত্রীও আছেন পর্যাপ্ত। কিন্তু জ্বালানি নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে শুক্রবার সকাল থেকেই দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। কোথাও আবার গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে পাম্প।
এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালকেরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস নিতে পারছেন না। জ্বালানি সংগ্রহেই দিনের বড় একটি সময় চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে গণপরিবহন চলাচল। এর প্রভাব পড়ছে কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের ওপরও।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে এমন চিত্র দেখা যায়। কোনো কোনো স্টেশনে সড়কের ওপর পর্যন্ত গাড়ির সারি ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসের অপেক্ষায় থাকা চালকদের মধ্যে ছিল ক্ষোভ ও হতাশা।
স্থানীয়রা জানান , স্বাভাবিক সময়ে যেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্যাস নেওয়া সম্ভব হয়, সেখানে এখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় লাইনে দাঁড়ানোর পরও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় আবার অন্য স্টেশনের খোঁজ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে কর্মঘণ্টার অপচয়, অন্যদিকে যাত্রী পরিবহনেও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে নগরজীবনের অন্য ক্ষেত্রেও। রান্নার কাজে গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি সড়ক পরিবহনেও দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। রাজধানীর প্রায় সব এলাকার চিত্রই যেন একই, গ্যাসের জন্য অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মালিকেরা। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে পাম্প চালু রাখার সুযোগ থাকে না। ফলে বাধ্য হয়েই কার্যক্রম সীমিত কিংবা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানিতে ঘাটতির কারণে গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে চাপ কমে গেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠের চিত্রে এখনো তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে থাকা চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি তাই অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে যেখানে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোই মানুষের প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ, সেখানে জ্বালানির সংকট সেই দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, এখন সেটিই নগরবাসীর বড় প্রশ্ন।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

মহাখালীতে কিশোরীর আত্মহত্যা, সাবলেট বাসায় ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

প্রথম দিনেই দুর্ঘটনার শিকার নারীদের বিশেষ ‘পিংক বাস’

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা রঞ্জন কর্মকারের প্রয়াণ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও ‘ভৌতিক’ বিলের প্রতিবাদে তিতাস ভবনের সামনে বিক্ষোভ

মেট্রোরেলের নিচে ছাতায় লুকানো ছিল শক্তিশালী পাইপ বোমা, বোতাম চাপলেই ঘটত বিস্ফোরণ

কিছু মোবাইল সাংবাদিক অপসাংবাদিকতা করছে: আতিকুর রহমান রুমন

ডেমরা পুলিশ লাইন্স থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা

বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত রাজধানীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

